ঢাকাসোমবার , ৩১ অক্টোবর ২০২২
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আহত
  4. এওয়ার্ড
  5. কৃষি
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য প্রযুক্তি
  9. দিবস
  10. ধর্ম
  11. নির্বাচন
  12. বিনোদন
  13. মৃত্যু
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লালমনিরহাট প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে নিয়োগ বিহীন প্রধান শিক্ষক পরিচয়ে দুর্নীতি লুটপাট করছেন সুভাষ বর্মন

Ranisankailnews24
অক্টোবর ৩১, ২০২২ ৯:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন,লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাট নর্থ বেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক না হয়ে বছরের পর বছর ধরে বিদ্যালয়ের বেতন,ভাতা,সুযোগ সুবিধা সহ অর্থ লুটপাটের সাথে জড়িত সুভাষ চন্দ্র বর্মন।নর্থ বেঙ্গল ডিজেবল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নামে এন,জিও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হবার সুবাদে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক ব্যাক্তি দুটি প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন।সঠিক নজরদারি ও মনিটরিং না থাকায় সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের অধীন পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম দুর্নিতীর কারনে ব্যাহত হচ্ছে।

বিভিন্ন সুত্র ধরে জানা যায়,লালমনিরহাট পৌরসভার গোশালা সোসাইটির ভিতরে মুক ও বধির প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য নর্থ বেঙ্গল বাস ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৯সালে,নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছাড়াই বিদ্যালয়টি সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত হন ২৮মার্চ ২০১৩সালে।২০২০সালের ০৬ আগষ্ট সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়ের এমপিও ভুক্ত হন।সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় ২০২১সালের ২১মে এক আদেশে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন থেকে বিদ্যালয়ের ১২জন শিক্ষক কর্মচারীর বেতন ভাতা প্রদান শুরু করে। সেখানে প্রধান শিক্ষক পরিচয় দানকারী সুভাষ চন্দ্র বর্মনের নাম নেই।সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় সুভাষ চন্দ্র বর্মন কে এমন কোন আদেশ প্রদান করেনি অবৈতনিক অথবা প্রধান শিক্ষক হিসেবে।অথচ বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হবার পরেই নর্থ বেঙ্গল ডিজেবেল ডেভেলপমেন্ট এনজিও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বর্মন, ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, ছুটি,সহ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় উন্নয়ন ভাউচারে স্বাক্ষর করে তা নিয়ন্ত্রন করছেন।প্রতিষ্ঠানটির ব্যায়ভার সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় বহন করায় এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই এই প্রতিষ্ঠানের দেখ ভাল সহ সুপারভিশন সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়,জেলা প্রশাসক,অথবা সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাক্তির করার কথা,অথচ অদৃশ্য কারনে ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে সুভাষ চন্দ্র বর্মন ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী করে সরকারের অর্থ লোপাটের মহাৎসব পালন করছেন,এতে মুক ও বধির প্রতিবন্ধী স্কুলটি হুমকির মুখে পড়েছে।

সুভাষ চন্দ্র বর্মন শুরু থেকে স্কুলের উপর খবরদারি করায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত মুল কাগজপত্র তার কাছে রেখেছেন,ফলে তাদের বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে তার নির্দেশ মত চলতে বাধ্য করেন,এমন অভিযোগ করেছেন(নাম না প্রকাশ করার শর্তে) অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী।

এদিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না থাকায় ঐ বিদ্যালয়ের একমাত্র(বিএসএড)ডিগ্রী ধারী জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা আজমেরী হোসেন, চলতি বছরের ১৭জুলাই জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন বরাবরে পদোন্নতির জন্য একটি আবেদন জমা দেন,এটি টের পেয়ে সুভাষ চন্দ্র বর্মন তরিঘড়ি করে ০৮আগষ্ট প্রধান শিক্ষক পদে একটি আবেদন পত্র জমা দেন,এই দরখাস্ত জমা হবার পর থলের বেড়াল বেড়িয়ে আসে,মন্ত্রনালয় জানতে পারে এত দিন প্রধান শিক্ষক ছাড়াই বিদ্যালয়টি চলছিলো।
গত ১০আগষ্ট জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন এক পত্রের মাধ্যমে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক পদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা মোছাঃআজমেরী হোসেন কে নিয়োগ দেন, এবং গত ২৪ আগষ্ট মন্ত্রনালয় এক পত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী নামের তালিকায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে এবং অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে সুভাষ চন্দ্র বর্মনের নাম উল্লেখ নেই।চিঠি প্রাপ্তির পর ক্ষমতা খর্ব হবার কারনে সুভাষ চন্দ্র বর্মন অনৈতিক উপায়ে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কে প্রভাবিত করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পত্রটি রোধ করে,প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া প্রযন্ত পূর্বের অবস্থায় পরিচালনা করার নতুন আদেশ আনেন গত ০৮সেপ্টম্বর। এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষিকা আজমেরী হোসেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রীট পিটিশন করেন যার নং-১১৩২৫/২০২২, এবং গত ২৯ সেপ্টম্বর উচ্চ আদালত প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নতুন আদেশ ”প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া প্রযন্ত বর্তমান নিয়মে স্কুল পরিচালনা করার'” আদেশটি কেন বৈধ হবে না তা জানতে রুল জারি করে।
রীটের কথা জানতে পেরে দূর্নিতীবাজ সুভাষ চন্দ্র বর্মন শিক্ষিকা আজমেরী হোসেন কে নানা ভাবে হয়রানি সহ বেতন বন্ধ ও চাকুরিচূত্য করার হুমকী প্রদান করেন।এই বিষয়ে শিক্ষিকা আজমেরী হোসেন কে জিজ্ঞেস করলে বলেন, আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধা আছে বিধায় তিনি আইনের সহায়তা নিয়েছেন,কোন হুমকীতে তিনি বিচলিত নন।

এদিকে নর্থ বেঙ্গল ডিজেবেল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর নির্বাহী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্কুলে দুজন শিক্ষক নিয়োগ দেন,এই নিয়োগ দেবার সময় ২০১২ ও ২০১৮ সালে নিয়োগ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও নিয়োগ অনুমোদন কারী কমিটির সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সিরাজুল হকের জাল স্বাক্ষর ব্যাবহার করেছেন।এ বিষয়ে চার্চ অব গড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান নর্থ বেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ২০০৯সালের নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন এর পরের নিয়োগ সম্পর্ক্যে সে অবগত নন।

সুভাষ চন্দ্র বর্মনের দুর্নিতীর আর একটি বড় বিষয় বেরিয়ে আসে তদন্তে, নর্থ বেঙ্গল বাক শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক কর্মচারী দেখিয়ে প্রাথমিক গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে নর্থ বেঙ্গল একীভূত শিক্ষা কেন্দ্র নামের একটি স্কুলের অনুমোদন নেন চতুর সুভাষ চন্দ্র বর্মন।অন্য স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী দিয়ে জাল জালিয়াতি ভাবে নতুন নামে স্কুল খোলার নজীর এটিই প্রথম।শুধু এটি নয় নিখুঁত জালিয়াতি করতে জাতীয় পরিচয় পত্র তথ্য গোপন করে সুভাষ চন্দ্র রায় নাম ধারন করে নতুন বিদ্যালয়ের এস,এম,সি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়েছেন সুভাষ চন্দ্র বর্মন।নিজের ছেলে কে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিজের জাল স্বাক্ষর করে কাজ

জাল স্বাক্ষর করে কাজ সারেন।প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া পুত্র অসিত বরন সুভাষী সিক্ত ঢাকায় লেখা পড়া করেন,তার মুঠো ফোনে জানতে চাইলে সে স্বীকার করেন ঢাকায় সে লেখাপড়া করছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি (এপএসসি)২০২২ ছক মতে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিত সুভাষী সিক্ত জন্ম তারিখ ১৭ফেব্রুয়ারী ২০২১,তার পিতার নাম সুভাষ চন্দ্র বর্মনের পরিবর্তে রায় লিখা রয়েছে।অসিত কুমার রায় ২০১৬সালে দিনাজপুর বোর্ড থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন বিজ্ঞান বিভাগে।এই হিসেব অনুযায়ী নর্থ বেঙ্গল একীভূত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ২০১০ সালে নিয়োগ কালীন তার বয়স ছিল ১০বছর।নজির বিহীন এই জাল জালিয়াতি করে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সুবিধা লোপাট করছেন দুর্নিতীবাজ সুভাষ চন্দ্র বর্মন।

নর্থ বেঙ্গল ডিজেবেল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার,নর্থ বেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল,নর্থ বেঙ্গল একীভূত শিক্ষা কেন্দ্র একই ব্যাক্তির তৈরী প্রতারণার ফাঁদ।জাল জালিয়াতি করে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়,প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় ব্যাবহার করে এসব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে অবৈধ নিয়োগ বানিজ্য করে কোটি কোটি টাকার অর্থ সম্পদের মালিক সুভাষ চন্দ্র বর্মন,ওরফে সুভাষ চন্দ্র রায়।

সুভাষ চন্দ্র বর্মনের কাছে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি অস্বীকার করে বলেন,তার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে,একটি প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে দুএকটু এদিক সেদিক হতে পারে,এর বাহিরে অভিযোগের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি তিনি।

বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবী প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে সুভাষ বর্মনের দুর্নিতীর তদন্ত পৃর্বক ব্যাবস্থা নিতে,এতে প্রতিষ্ঠানটি রাহু মুক্ত হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।